সাইকো এবং সোশিওপ্যাথ নিয়ে পাঁচ মিথ
১. সাইকোপ্যাথ মানেই আবেগহীন যন্ত্র কিংবা রোবট-মানব
উত্তর: আগের অধ্যায়েই সাইকোপ্যাথদের আবেগের আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করেছি। সাইকোপ্যাথ রোবট-মানব–উক্তিটি মিথ। তাদের বিদ্বেষ, ক্ষোভ, সাধারণের থেকে ব্যতিক্রমধর্মী আনন্দের অনুভূতি রয়েছে। তবে লিম্বিক সিস্টেমের অস্বাভাবিকতার কারণে তাদের ভয়, শঙ্কা, দুশ্চিন্তা নেই।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের আগ্রাসী মনোভাব আছে।
২. নীতিকথা বা নীতিশাস্ত্রের অর্থ সাইকোপ্যাথ কিংবা সোশিওপ্যাথেরা কখনো বোঝে না।
উত্তর: নীতি-নৈতিকতা সোশ্যাল কগনিশনের অংশ। সমাজ-রাষ্ট্রভেদে নীতি–নৈতিকতার সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়।
সাইকোপ্যাথদের মস্তিষ্কের সুপিরিয়র টেম্পোরাল জাইরাস অংশটি সঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে সামাজিক নিয়মনীতি মেনে চলা বা আইন পালন করার মতো বাধ্যবাধকতাগুলোর সাথে তারা খাপ খাওয়াতে পারে না।
৩. সাইকোপ্যাথি এবং সোশিওপ্যাথি ভয়ানক মানসিক রোগ।
উত্তর: এটি একটি মিথ।
DSM-5 এ সাইকোপ্যাথি এবং সোশিওপ্যাথি শব্দের বদলে অ্যান্টি-সোশ্যাল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারকে পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। আর জেনেটিক, নিউরোবায়োলজিক্যাল এবং পরিবেশের মিথস্ক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে না। তাই সাইকোপ্যাথি এবং সোশিওপ্যাথি মানেই ভয়ানক মানসিক রোগ নয়।
৪. রূপ সচেতন সব মেয়েই নার্সিসিস্ট।
উত্তর: এটি একটি মিথ।
নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সময় ধরে DSM-5 প্রণীত আটটি ক্রাইটেরিয়া মধ্যে অন্তত পাঁচটি উপস্থিত থাকতে হবে। রূপসচেতনতা হেলদি সেলফ লাভের অন্তর্গত।
৫. পৃথিবীতে ছেলেদের থেকে মেয়েদের নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হবার পরিমাণ বেশি।
উত্তর: এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। NPD আক্রান্ত রোগীর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা নারীর থেকে অনেক বেশি।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আমার নন ফিকশন এর নির্বাচিত অংশ: ৩৭ তম পর্ব
লেখক: চিকিৎসক ও কথা সাহিত্যিক