সাইকো এবং সোশিওপ্যাথ নিয়ে আরও পাঁচ মিথ

১. সাইকোপ্যাথ এবং সোশিওপ্যাথ মানবিক বিভাগের সোশিওলজির অন্তর্গত। চিকিৎসকেরা এদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন না।

বাস্তবতা: এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সাইকোপ্যাথি এবং সোশিওপ্যাথি নাম দুটো সরাসরি ব্যবহার না করলেও ‘ASPD’ হিসেবে ডায়াগনস করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সাইকোপ্যাথ এবং সোশিওপ্যাথদের নিয়ে সাইকো অ্যানালাইসিস করেন।


২. সব সেলিব্রেটিই নার্সিসিস্ট।

বাস্তবতা: কমবেশি সকল সেলিব্রেটি বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে কিছু না কিছু নার্সিসিস্টিক ট্রেইট রয়েছে। তবে ট্রেইট থাকলেই DSM-5 অনুযায়ী তাদের NPD রোগী আখ্যা দেওয়া যাবে না। সব সেলিব্রেটি নিয়মিতভাবে ভক্ত বা অধীনস্থকে গ্যাসলাইট বা বুলিং করে না।


সেলিব্রেটিদের মধ্যে ম্যাডোনা NPD-তে আক্রান্ত বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

৩. সাইকোপ্যাথ এবং সোশিওপ্যাথদের যৌনক্ষুধা বেশি থাকে। প্রায়ই তাদের নিষিদ্ধপল্লিতে যেতে হয়।

বাস্তবতা: শুধু ভুল নয়, এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা।

সাইকোপ্যাথেরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের যৌন চাহিদা পূরণ না করে থাকতে পারেন। এমনকি হাই ফাংশনিং অনেক সাইকোপ্যাথ এবং সোশিওপ্যাথদের মধ্যে যৌনতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার প্রবণতাও রয়েছে।
হাই ফাংশনিং সোশিওপ্যাথের ফিকশনাল উদাহরণ হিসেবে শার্লক হোমসের নাম বলা যায়। তিনি যৌনতায় সময় ব্যয় করাকে সময়ের অপচয় বলে মনে করতেন এবং নিজের শারীরিক চাহিদাকে বছরের পর বছর বাঁধ দিয়ে রাখতে পারতেন।

যেসব সিরিয়াল কিলার নারী কিংবা যৌনকর্মীদের ধর্ষণ করে হত্যা করতেন তাদের অধিকাংশের মোটিভ ছিল ‘পৃথিবীর জঞ্জাল পরিষ্কার করা’।

কারণ তারা নারীকে পৃথিবীর জন্য অপ্রয়োজনীয় জল্লাল মনে করতেন।



৪. ব্রিটেন আর আমেরিকায় সাইকোপ্যাথদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার কারণে সাইকোপ্যাথি বেড়ে গেছে।

বাস্তবতা: উক্তিটি আংশিক সত্য এবং আংশিক মিথ্যা। ব্রিটেনে মৃত্যুদণ্ড রদ করার পেছনে একটা গল্প আছে। সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে দেয় এটি।

তিরিশ-চল্লিশের দশকে টিমোথি ইভান নামের এক ব্যক্তিকে স্ত্রী-সন্তান হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই মামলায় রাজসাক্ষী ছিল ওই ব্যক্তির প্রতিবেশী জন ক্রিস্টি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বেশ অনেক বছর পর উক্ত ভবনে একটি গুপ্ত স্থান আবিষ্কৃত হয়। জানা যায়, জন ক্রিস্টি শুধু উক্ত মা-সন্তানকেই নয় বরং বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে আসা এক ভয়ানক সিরিয়াল কিলার। এই ঘটনাকে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে ‘Miscarriage of Justice’ বলা হয়। এরপর থেকে ব্রিটেনে মৃত্যুদন্ড বাতিল করা হয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্টেটে মৃত্যুদণ্ড চালু থাকলেও কিছু স্টেটে বিলোপ করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি সাইকোপ্যাথিক হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের পক্ষপাতী। মৃত্যুর আগে তাদের জিন এবং ক্রমোসোমাল ম্যাপিং এবং মৃত্যুর পর তাদের মস্তিষ্ক নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা অনেক অনাবিষ্কৃত রহস্যের দ্বার খুলে দেবে। তবে বিচার প্রক্রিয়া নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আমার নন ফিকশন এর নির্বাচিত অংশ: ৩৯  তম পর্ব

লেখক: চিকিৎসক ও কথা সাহিত্যিক